ক্যাপ্টেন মনোজিংক
জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট) (জিংক: ৩৬.০%। সালফার: ১৭.৫%)
ফসলে দস্তার অভাবজনিত লক্ষণ:
- কচি পাতার মধ্য শিরা ও গোড়ার দিকে সাদা হয়ে যায়।
- পুরাতন পাতায় মরিচা পড়ার মতো ছোট ছোট দাগ পড়ে এবং পরে বাদামী রং ধারণ করে।
- পাতার আকার ছোট হয় এবং কোন কোন পাতার কিনারা কুঁচকে যায়।
- গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং জমিতে ফসলের বৃদ্ধি অসমান হয়।
- ফসলে বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
- ফসল দেরিতে পরিপক্ক হয়।
ফসলে দস্তার প্রয়োজনীয়তা:
- দস্তার অভাবে ৩৫% পর্যন্ত ফলন কম হতে পারে।
- দস্তা এনজাইমের কার্যক্রমকে সক্রিয় করে এবং অক্সিন তৈরিতে সহায়তা করে।
- দস্তা ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সঠিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
- ফসফরাস গ্রহণে সহায়তা করে।
- ফুল ফোটাতে ও ফল গঠনে সহায়তা করে।
ব্যবহার:
ধান, গম, ভুট্টা, আলুসহ সকল প্রকার তৈল জাতীয় ফসল, ডাল জাতীয় ফসল, শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি, সকল প্রকার ফুল ও ফলে দস্তা ও সালফারের অভাব পূরণের জন্য এবং আশানুরূপ ফলন পেতে ক্যাপ্টেন মনোজিংক ব্যবহার করুন।
প্রয়োগ মাত্রা:
একর প্রতি ২-৩ কেজি ক্যাপ্টেন মনোজিংক প্রয়োগ করতে হবে। তবে জমিতে দস্তা ও সালফারের অভাবের তারতম্য ভেদে প্রয়োগ মাত্রা কমবেশি হতে পারে।
প্রয়োগ পদ্ধতি:
- জমি তৈরির শেষ চাষে ছিটিয়ে প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
- ফসলে দস্তার অভাব দেখা দিলে মাত্রানুযায়ী ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে
সতর্কতা:
- টি এস পি কিংবা ডি এ পি সারের সাথে দস্তা সার একত্রে মিশিয়ে প্রয়োগ করবেন না।
- শিশু ও গৃহপালিত পশু-পাখির নাগালের বাইরে রাখুন ও খাদ্য সামগ্রী থেকে দূরে রাখুন।
- ব্যবহার করার সময় ধূমপান, পানীয় ও খাদ্য গ্রহণ করবেন না।
- ব্যবহারের পর হাত, মুখ ও কাপড়-চোপড় ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন।
সংরক্ষণ:
শুষ্ক ও ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন।